পরিচিতিঃ
বাদামী গাছ ফড়িং (Brown Plant Hopper or BPH) ধানের একটি মারাত্মক ক্ষতিকর পোকা। বাদামী গাছ ফড়িং ধান গাছের গোড়ায় বসে রস শুষে খায়। ফলে গাছ পুড়ে যাওয়ার রং ধারণ করে মরে যায়। আক্রান্ত ক্ষেতে বাজ পড়ার মতো হপার বার্ণ – এর সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ কৃষকের কাছে বাদামী গাছ ফড়িং ‘‘কারেন্ট পোকা’’ বা ‘‘গুণগুণী’’ পোকা নামে পরিচিত।
ক্ষতির ধরনঃ
ধান
গাছের গোড়ায় বসে রস শুষে খায় ফলে গাছ পুড়ে যাওয়ার রঙ ধারণ করে মরে যায়। তখন একে
বলা হয় হপারবার্ন বা ফড়িং পোড়া।একজোড়া পোকা প্রতিবার প্রায় লক্ষাধিক পোকার জন্ম
দিয়ে থাকে। এ পোকার সংখ্যা এত বেড়ে যায় যে, আক্রান্ত
ক্ষেতে বাজ পড়ার মত হপারবার্ন এর সৃষ্টি হয়। দূর থেকে গাছ গুলোকে পুড়ে যাওয়ার মত
দেখায়। এ ধরনের ক্ষতিকে “হপার বার্ণ” বলে। একদিনে
তাদের শরীরের ওজনের ১০-২০ গুণ খেতে পারে। অতিরিক্ত খাদ্য গাছের নিচের পাতায় মধু
আকারে ঢেলে দেয়। পরে ঐ মধুতে ঝুল ছত্রাক জন্মে। এই ছত্রাক গাছের বৃদ্ধিতে বাধা
দেয়। বাদামী গাছ ফড়িং গ্রাসি স্টান্ট, ব্যাগেট
স্টান্ট ও উইল্টেড স্টান্ট নামক ভাইরাস রোগ ছড়ায়।
ক্ষতির ব্যাপ্তিঃ
বাদামী গাছ ফড়িং এর আক্রমণে শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যখন অনুকূল পরিবেশ পায় তখন এর আক্রমণে ক্ষেতে হপার বার্ণ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে সম্পূর্ন ফলনই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
গ্রীন বাংলা এগ্রোভেট
লিঃ এর সমাধানঃ
কীটনাশক স্প্রে করার পূর্বে জমিতে ২-৩ হাত দূরে দূরে
বিলিকেটে দিতে হবে।
বাদামী গাছ ফড়িং গাছের গোঁড়ায় থাকে এ জন্য স্প্রে
দ্বারা গাছে কীটনাশক ঔষধ ছিটানোর সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের গোঁড়া ভালো ভাবে
ভিজে।
q বাদামী
গাছ ফড়িং দমনের জন্য সবচেয়ে কার্যকরি কীটনাশক- ফড়িং ৮০ ডব্লিউ
ডি জি ৫ গ্রাম প্রতি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে
৫ শতক জমিতে স্প্রে করতে হবে। একরে প্রতি
মাত্রা ১০০ গ্রাম।
q অথবা জি-প্রিড ২০ এস এল ৫ মি.লি. ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করতে হবে। একর প্রতি মাত্রা ১০০ মিলি।
q অথবা সাইক্লোবন্ড ৫৫ ইসি ১০ মি লি ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতক জমিতে স্প্রে করতে হবে। একর প্রতি মাত্রা ২০০ মিলি।